July 11, 2026, 7:15 am
বাংলাদেশে জলবায়ুর ঝুঁকি বাড়ায় ফসলের উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে কৃষকরা। ফলে মোট জিডিপিতে কৃষির অবদান দিন দিন কমছে। কৃষি খাতে দেশে ৫০ বছরে জিডিপিতে অবদান কমেছে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৬০ শতাংশ। অথচ ২০২২ সালে এটি এসে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে, অর্থাৎ ৫০ বছরে কমেছে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (২ আগস্ট) ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসিবি), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) যৌথ উদ্যোগে ’জলবায়ু অভিযোজন : কৃষিভিত্তিক শিল্পোন্নয়নে বাংলাদেশের সুযোগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রুহুল আমিন তালুকদার।
এতে বক্তব্য দেন আইসিসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট, ব্র্যান্ড ও মার্কেটিংপ্রধান বিটোপি দাস চৌধুরী, এসিআই মটর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফএইচ আনসারী, ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইম্প্রুভমেন্ট সেন্টারের কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. টিএম আমজাদ বাবু, বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম আরিফ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশিদ আলম।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ’বাংলাদেশ খাদ্য আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান এজেন্ডা কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি। এশিয়া প্যাসিফিকের ৫২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি খাতে উন্নয়নের সামনের সারিতে।‘
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ’এখন পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তার সঙ্গে রয়েছে পানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কৃষিতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে সহজেই এসব তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেজন্যও কাজ করা হচ্ছে। উৎপাদনে শ্রমিক ব্যয় কমাতে হার্ভেস্ট মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।’
তিনি বলেন, ’জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৭ শতাংশ উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের ২৫ শতাংশ এলাকা উপকূলীয়। তার মধ্যে ২ মিলিয়ন হেক্টর জমি লবণাক্ত।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহিষ্ণু স্থিতিস্থাপক কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। কৃষি ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, ’বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি ফল উৎপাদনকারী দেশের একটি। গত ১৮ বছরে ফল উৎপাদন বেড়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৫ বছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশের জিডিপির ১-২ শতাংশ ক্ষতি হয়ে থাকে। বিশেষ করে আবাদি জমির ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি টন কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়, যার বেশিরভাগই চাল ও আলু। এতে ফল, শাক-সবজি ও মসলা প্রায় ১৭ শতাংশ। বিশ্বে ৭০০টি মৌলিক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।’
দ্যা অ্যাডাপটেশন ইকোনমি শীর্ষক প্রবন্ধে বিটোপি দাস চৌধুরী বলেন, ’এই দশকে অভিযোজনে ব্যয় করা প্রতিটি ডলার ১০টি বাজারের (বাংলাদেশ, চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম) জন্য ১২ ডলার অর্থনৈতিক সুবিধা দেবে, অর্থাৎ এক ডলার বিনিয়োগ করলে পরবর্তীতে ১২ ডলার লাভ হবে। উষ্ণায়নের ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পরিস্থিতিতে এ বিনিয়োগের প্রয়োজন।’